উইসকনসিনে শীর্ষ ২০টি বহিরাঙ্গন অভিযান

উইসকনসিনে শীর্ষ ২০টি বহিরাঙ্গন অভিযান

মিশিগান হ্রদের পশ্চিম প্রান্ত বরাবর অবস্থিত কেটল মোরেইন স্টেট ফরেস্টের নর্দার্ন ইউনিট বহিরাঙ্গনপ্রেমীদের জন্য একটি বিস্তৃত বিনোদনভূমি, যা মিলওয়াকি থেকে প্রায় এক ঘণ্টা উত্তর-পশ্চিমে। এর আইস এজ ট্রেইলের অংশটি হিমবাহে গঠিত ঢেউখেলানো পাহাড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে; স্কাপারনং রিজের মতো খাড়া উতরাই-চড়াই দিয়ে পথটি হাইকারদের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবার গভীর কেটল ও হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের বিস্তৃত দৃশ্য দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করে। অন্যথায় সমতল উইসকনসিনে এই এলাকার নাটকীয় ভূপ্রকৃতি অনন্য এবং বিরল। বসন্ত ও শরতে এটি বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে, যখন বুনো ফুল ফোটে বা গাছের পাতা উজ্জ্বল রঙে জ্বলে ওঠে।

আরও উত্তরে, ঈগল রিভার শহরের কাছে, গ্রিন বে থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরে ঈগল রিভার চেইন অব লেকস জলপ্রেমীদের স্বর্গ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ঘন বন ও মাঝে মাঝে দেখা দেওয়া বালুকাবেলার মাঝে অবস্থিত পরস্পর-সংযুক্ত হ্রদগুলো প্যাডলবোর্ডার ও কায়াকাররা ঘুরে দেখতে পারেন। বিগ লেক থেকে লিংক্স লেক পর্যন্ত পথটি বিশেষ জনপ্রিয়; এটি নিরিবিলি ছোট উপসাগরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়, যেখানে লুন ও ঈগল দেখা যায়। গ্রীষ্মের সকালগুলোতে পানি শান্ত থাকে এবং পানির উপর থেকে কুয়াশা উঠতে দেখা যায়, যা নিরিবিলি বন্য পরিবেশের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ড্রিফটলেস এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, লা ক্রস থেকে প্রায় ৯০ মিনিট দক্ষিণে, মিসিসিপি নদীর উপত্যকার দিকে তাকিয়ে থাকা খাড়া পাহাড়গুলোর জন্য পেরট স্টেট পার্ক সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এখানকার ফায়ারলেন ট্রেইল একটি মাঝারি কঠিন লুপ, যা বনভূমির রিজ ও ব্লাফের কিনারা পেরিয়ে যায় এবং শেষে নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথের অপূর্ব দৃশ্য দেখায়। গুহা ও সিঙ্কহোল-চিহ্নিত পার্কটির স্বতন্ত্র কার্স্ট ভূপ্রকৃতি রাজ্যের হিমবাহে গঠিত বাকি ভূদৃশ্য থেকে একে আলাদা করেছে। বিকেলের শেষভাগের আলো ছবি তোলার জন্য আদর্শ; এতে উপত্যকার ওপর দীর্ঘ ছায়া ও উষ্ণ রঙ পড়ে।

ম্যাডিসন থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা উত্তর-পূর্বে গেলে, লেক সুপিরিয়রের দক্ষিণ তীরে অ্যাপোস্টল আইল্যান্ডস ন্যাশনাল লেকশোর সমুদ্রগুহা ও ঐতিহাসিক বাতিঘরসহ এক জলভিত্তিক অভিযান উপস্থাপন করে। মূল ভূখণ্ডের কাছে স্টকটন দ্বীপের আশেপাশের বেলেপাথরের গুহা ধরে কায়াকিং করলে পানিপথে בלבד পৌঁছানো যায় এমন ভাস্কর্যের মতো শিলাগঠন দেখা যায়। শরৎকাল এখানে আসার জন্য বিশেষ জাদুময় সময়; তখন উজ্জ্বল শরতের রঙ ঠান্ডা নীল পানিতে প্রতিফলিত হয় এবং ভিড়ও কমে যায়। গাইডেড ট্যুরে দ্বীপগুলোর সামুদ্রিক ইতিহাস ও নেটিভ আমেরিকান ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়, ফলে গল্পে সমৃদ্ধ হয় প্যাডলিংয়ের অভিজ্ঞতা।

মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পলের যমজ শহরগুলোর কাছাকাছি, প্রায় দুই ঘণ্টা পূর্বে, বারাবুর কাছে ডেভিলস লেক স্টেট পার্কে আইস এজ ন্যাশনাল সিনিক ট্রেইল আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পার্কটির স্বাক্ষরধর্মী ট্রেইলটি ইস্ট ও ওয়েস্ট ব্লাফের দৃশ্যপথে উঠে গেছে; হ্রদের ৫০০ ফুট ওপরে উঠে থাকা নাটকীয় কোয়ার্টজাইট খাড়া পাহাড় সেখানে দেখা যায়। ট্রেইলের খাড়া আঁকাবাঁকা বাঁক ও পাথুরে ভূমি হাইকারদের পরীক্ষা নেয়, কিন্তু বনাচ্ছাদিত পাহাড়ে ঘেরা ঝলমলে হ্রদের শীর্ষদৃশ্য প্রতিটি পদক্ষেপের পুরস্কার দেয়। বসন্তের বুনো ফুল ও গ্রীষ্মের উষ্ণ আবহাওয়া বড় ভিড় টানে, তবে ভোরের হাইক নিরিবিলি একান্ততা দিতে পারে।

রাজ্যের পূর্বদিকে, গ্রিন বে থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা উত্তরে ডোর কাউন্টির পেনিনসুলা স্টেট পার্কের সুন্দর তীর সাইক্লিস্ট ও হাইকার—উভয়কেই আহ্বান জানায়। সানসেট ট্রেইলটি হ্রদের তীর ঘেঁষে চলা একটি মৃদু পথ, যা বনাচ্ছাদিত ব্লাফকে বিকেলের শেষভাগের আলোয় ঝলমলে খোলা উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পার্কটির ঐতিহাসিক ঈগল টাওয়ারে উঠে গ্রিন বে এবং আশপাশের ফলবাগান ও আঙুরক্ষেতের ৩৬০-ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়। শরতের ফসল কাটার মৌসুমে গ্রামীণ আবহ আরও বাড়ে; স্থানীয় খামারগুলো তাজা পণ্য সরবরাহ করে এবং ডোর কাউন্টির চেরি সর্বত্র দেখা যায়।

ইও ক্লেয়ার থেকে দক্ষিণে অল্প গাড়ি চালালেই, এক ঘণ্টারও কম দূরত্বে, মনোরম চিপেওয়া রিভার স্টেট ট্রেইল রয়েছে—সাইকেল চালানো ও দৌড়ানোর জন্য জনপ্রিয় একটি সমতল ও সহজলভ্য পথ। এটি জলাভূমি ও বনভূমির মিশ্র পরিবেশের মধ্য দিয়ে নদীর বাঁক অনুসরণ করে; এখানে প্রায়ই হরিণ এবং হেরন ও কিংফিশারের মতো নানা পাখি দেখা যায়। ট্রেইলটি উইসকনসিনের গ্রামীণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা ছোট শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই এটি আরামদায়ক এক দিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ। বসন্তের শেষভাগ ও গ্রীষ্মের শুরুর দিকে চারপাশে ঘন সবুজ এবং গানের পাখির কোরাস থাকে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত।

দক্ষিণ সীমান্তের কাছে, ম্যাডিসন থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট দক্ষিণে, ব্লু মাউন্ডসে ক্যাভ অব দ্য মাউন্ডস ভূগর্ভস্থ অভিযানের সুযোগ দেয়। গাইডেড ট্যুরে ফেডারেলভাবে সুরক্ষিত এই প্রাকৃতিক নিদর্শনের ভেতরের স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইটের মতো চমৎকার ক্যালসাইট গঠন দেখা যায়। গুহার ঠান্ডা ভেতর গরম গ্রীষ্মের মাসগুলোতে সতেজ স্বস্তি দেয়। মাটির ওপরে হাইকিং ট্রেইল প্রেইরি ও শক্ত কাঠের বনভূমির মধ্য দিয়ে গেছে, ফলে ভূতত্ত্ব ও প্রাকৃতিক ইতিহাসকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীরা পুরো দিন ঘুরে দেখতে পারেন।

উইসকনসিনের উত্তর-পশ্চিম কোণে, ইও ক্লেয়ার থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা উত্তরে অ্যাশল্যান্ডের কাছে চেকুয়ামেগন-নিকোলেট ন্যাশনাল ফরেস্ট বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে। নর্থ কান্ট্রি ন্যাশনাল সিনিক ট্রেইল এখান দিয়ে গেছে, যেখানে ঘন পাইন ও অ্যাসপেন বনের মাঝে বহুদিনের ব্যাকপ্যাকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। কালো ভালুক ও নেকড়ে দেখা যেতে পারে, আর স্বচ্ছ হ্রদগুলো মাছ ধরা ও ক্যানো চালানোর জন্য আমন্ত্রণ জানায়। শরতের প্রথম তুষারপাত বনে ঝকঝকে আবরণ ছড়িয়ে দেয়, যা এটিকে আলোকচিত্রীদের স্বপ্নে পরিণত করে।

মিলওয়াকির কাছাকাছি, ওক লিফ ট্রেইল শহর ও আশপাশের শহরতলির মধ্য দিয়ে প্রায় ১৩৫ মাইল এগিয়ে গেছে; ডাউনটাউন থেকে প্রায় ১৫ মিনিট দূরেই এখানে শহুরে ও প্রাকৃতিক—দুই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। সাইক্লিস্ট ও দৌড়বিদরা নদীর দৃশ্য, অসংখ্য পার্কে প্রবেশের সুযোগ এবং গুঁড়ির ওপর রোদ পোহানো কচ্ছপের মতো স্থানীয় বন্যপ্রাণীর ঝলক উপভোগ করতে পারেন। ট্রেইলটি মিলওয়াকি কাউন্টি চিড়িয়াখানা এবং ফ্রেডেরিক ল অমস্টেডের নকশা করা মনোরম লেক পার্কের সঙ্গে যুক্ত। শরতের শুরুর দিকের সপ্তাহান্ত আদর্শ, যখন ট্রেইলটি নানা কর্মকাণ্ডে মুখর থাকে এবং বাতাসে শীতলতা নামে।

ওয়াসুর কাছে, গ্রিন বে থেকে প্রায় ৯০ মিনিট উত্তর-পশ্চিমে, রিব মাউন্টেন স্টেট পার্কে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৯২৪ ফুট উঁচু একটি চমকপ্রদ কোয়ার্টজাইট রিজ রয়েছে। সামিট ট্রেইলটি একটি ফায়ার টাওয়ারের পর্যবেক্ষণ ডেকে পৌঁছায়, যেখান থেকে আশপাশের বন ও নিচের শহরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। শীতকালে স্নোশুয়িং ও ক্রস-কান্ট্রি স্কিইংয়ের সুযোগ থাকে, আর গ্রীষ্মে ট্রেইলজুড়ে বুনো ফুলের সমারোহ দেখা যায়। শহুরে সুবিধার কাছাকাছি থেকেও পাহাড়ি অভিজ্ঞতা দেওয়ার কারণে এই পার্কটি আলাদা।

রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, কেওয়ানি কাউন্টির মিশিগান হ্রদের তীর দর্শনার্থীদের ক্যাভ পয়েন্ট কাউন্টি পার্কে আহ্বান জানায়; এটি গ্রিন বে থেকে প্রায় এক ঘণ্টা উত্তর-পূর্বে। নাটকীয় চুনাপাথরের খাড়া পাহাড় হ্রদের ফিরোজা পানিতে নেমে গেছে, যা প্রাকৃতিক সমুদ্রগুহা ও অনন্য ক্ষয়জনিত বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। খাড়া পাহাড়ের ট্রেইল ধরে হাঁটতে বা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে উঠতে উঠতে দর্শনার্থীরা ঢেউয়ের গর্জন এবং পরিযায়ী পাখি দেখার সুযোগ উপভোগ করেন। বসন্তের শেষভাগ থেকে শরতের শুরুর দিক পর্যন্ত, যখন আবহাওয়া উষ্ণ ও হ্রদ তুলনামূলক শান্ত থাকে, তখন ভ্রমণ সবচেয়ে ভালো।

মিলওয়াকির দক্ষিণে, রিচার্ড বং স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়ায় প্রেইরি, জলাভূমি ও সাবেক সামরিক জমি নিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে; এটি শহর থেকে প্রায় ৩০ মিনিট পশ্চিমে। এর বহু-ব্যবহারযোগ্য ট্রেইলগুলো ঘোড়সওয়ার, হাইকার ও মাউন্টেন বাইকারদের এমন উন্মুক্ত স্থান ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানায়, যা মহানগর এলাকার এত কাছে খুব কমই পাওয়া যায়। বৈচিত্র্যময় আবাসস্থলগুলো বিরল পাখির প্রজাতিকে সহায়তা করে, ফলে বিশেষ করে বসন্তের পরিযানের সময় এটি পাখিপ্রেমীদের জন্য জনপ্রিয় স্থান। বিকেলের শেষভাগের আলো লম্বা প্রেইরি ঘাসের সোনালি রঙ আরও উজ্জ্বল করে।

লেক সুপিরিয়রের তীরে, মিনেসোটার ডুলুথ থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা উত্তরে, বে-ফিল্ড একটি মনোমুগ্ধকর প্রবেশদ্বার শহর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এখান থেকে দর্শনার্থীরা ফেরিতে করে অ্যাপোস্টল দ্বীপপুঞ্জে যেতে পারেন অথবা শান্ত বন্দরজলে কায়াকিং উপভোগ করতে পারেন। শহরটি

অতিরিক্ত সংস্থান